জসীম উদ্দীন
প্রিয় স্বাধীনতা
মেঘনা নদী দেব পাড়িকল-অলা এক নায়ে।আবার আমি যাব আমারপাড়াতলী গাঁয়ে।গাছ-ঘেরা ঐ পুকুরপাড়েবসব বিকাল বেলা।দু-চোখ ভরে দেখব কতআলো-ছায়ার খেলা।বাঁশবাগানে আধখানা চাঁদথাকবে
আমি অর্জুন
তখনো আসিনি এই পৃথিবীতে, থাকি মামণির পেটেনাম ঠিক করে রেখেছিলো বাবা ডিকশনারিটা ঘেঁটে।মার পেটে থেকে আগ্রহভরে বাবাটাকে দেখি রোজ—কাজ থেকে
হে কিশোর,শোনো
একদিন শোনো, এই দেশটাতেদানবেরা দেয় হানাপুড়ে ছারখার মাঠের শস্যমানুষের আস্তানা।বয় নিরবধিরক্তের নদী,শকুনেরা মেলে ডানা,এই দেশটাতে একদিন শোনো,দানবেরা দেয় হানা।শোনো, একদিন
বাংলা নামের নকশী কাঁথায়
তোমার আছে দুর্গাপূজা, আমার আছে ঈদ!তোমার যদি মন্দির, তো আমারটা মসজিদ।তোমার আছে দেব দেবী আর তোমার ভগবান,আমার আছে নবী-রাসূল, আল্লা
মুজিবের মুখ
মুজিবের মুখ মানে বাঙালির মুখমুজিবের মুখ মানে বাঙালির সুখমুজিবের মুখ মানে নদী আঁকাবাঁকামুজিবের মুখ মানে প্রগতির চাকা মুজিবের মুখ মানে
ঝিঙে ফুল
ঝিঙে ফুল! ঝিঙে ফুল।সবুজ পাতার দেশে ফিরোজিয়া ফিঙে-কুল –ঝিঙে ফুল।গুল্মে পর্ণেলতিকার কর্ণেঢলঢল স্বর্ণেঝলমল দোলো দুল –ঝিঙে ফুল॥পাতার দেশের পাখি বাঁধা
প্রার্থী
হে সূর্য! শীতের সূর্য!হিমশীতল সুদীর্ঘ রাত তোমার প্রতীক্ষায়আমরা থাকি,যেমন প্রতীক্ষা ক’রে থাকে কৃষকদের চঞ্চল চোখ,ধানকাটার রেমাঞ্চকর দিনগুলির জন্যে। হে সূর্য,
কোন্ দেশে
কোন্ দেশেতে তরুলতাসকল দেশের চাইতে শ্যামল?কোন্ দেশেতে চলতে গেলেইদলতে হয় রে দুর্বা কোমল?কোথায় ফলে সোনার ফসল,সোনার কমল ফোটে রে?সে আমাদের
আমাদের এই বাংলাদেশ
সূর্য ওঠার পূর্বদেশ বাংলাদেশ ।আমার প্রিয় আপন দেশ বাংলাদেশ ।আমাদের এই বাংলাদেশ । কবির দেশ বীরের দেশ আমার দেশ স্বাধীন দেশ বাংলাদেশ ।ধানের দেশ
জয় বাংলা
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মন্ত্র ছিলো কি?বন্ধু তুমি ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান শোনোনি!একটা ধ্বনির শক্তিতে কী বিপুল আলোড়ন!এই বাংলার আর বাঙালির দৃপ্ত উচ্চারণ–একেকটা
প্রভাতী
ভোর হলো দোর খোলোখুকুমণি ওঠো রে!ঐ ডাকে যুঁইশাখেফুল-খুকি ছোট রে!খুকুমণি ওঠো রে!রবি মামা দেয় হামাগায়ে রাঙা জামা ঐ,দারোয়ান গায় গানশোনো
মাঝি
আমার যেতে ইচ্ছে করে নদীটির ওই পারে — যেথায় ধারে ধারে বাঁশের খোঁটায় ডিঙি নৌকো বাঁধা সারে