কাজী কাদের নেওয়াজ
সাবধানে যেও
শেষ দেখা পানপাত্র হাতে।বলেছিলে, ‘সাবধানে যেও’।শীত ছিল। আলখাল্লা গান…তোমার তো সুরই পরিধেয়। শেষ আড্ডা সারিগান নিয়ে।তুমি কথা বলছিলে মাটির –তোমারই
ঈশ্বর
তোমাকে ঈশ্বর মেনে আমার হয়েছে যত জ্বালা।যক্ষ হয়ে ঘুরে মরছি একই মহল্লায় সারারাতজেগেছে সরাইখানা, দূরে দূরে ম্লান পান্থশালা…প্রতিটি অক্ষর আজও
জন্মদিনের ফুল
কখনও লাস্য, কখনও লড়াই তুমি।ভেঙেছিলে মিথ, মিথ্যের কারিগরিঅক্ষর স্থায়ী। কলমেরা মরসুমি।আমরা এখনও তোমারই কবিতা পড়ি। আগুনের পাশে এলাচদানার ঘ্রাণহরিণের পাশে
নত হও, কুর্নিশ করো
হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো,তোমার উদ্ধত আচরনে চেয়ে দ্যাখো, কী যে দু:খপেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ, অতএব, নত
তুমি: বিশ বছর আগে ও পরে
তুমি যে-সব ভুল করতে সেগুলো খুবই মারাত্মক ছিল। তোমার কথায় ছিল গেঁয়ো টান, অনেকগুলো শব্দের করতে ভুল উচ্চারণ: ‘প্রমথ চৌধুরী’কে
কোনো এক নারীর জন্য
চৈত্রের এক মধ্যরাতেবুকের কপাট খুলে দু’বাহু বাড়িয়েআমি অপেক্ষা করছিলামকোনো এক নারীর জন্যে…কৃষিজমিতে দাঁড়িয়েযে রকম অপেক্ষা করে উন্মুখ কৃষকফসল-ফলানো বৃষ্টির জন্যে—আমি
জীবন একটি নদীর নাম
জীবন একটি নদীর নাম,পিতামাতার ঐ উঁচু থেকেনেমে-আসা এক পাগলা ঝোরা—ক্রমশ নিম্নাভিমুখী;পাথুরে শৈশব ভেঙেকৈশোরের নুড়িগুলি বুকে নিয়েবয়ে চলা পরিণামহীনএক জলধারা—গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে
বৃষ্টি
খররৌদ্রময় এই দিন—শ্যামল বাংলায় বুঝি ফের নেমে আসে খরা!খরতাপে রুদ্ধশ্বাসক্ষুদ্র এই গ্রামীণ শহর,এ রকম এই দিনে চেতনায়ও খরার প্রদাহ—নির্বাচনে হেরে-যাওয়া
নগর ধ্বংসের আগে
নগর বিধ্বস্ত হ’লে, ভেঙ্গে গেলে শেষতম ঘড়িউলঙ্গ ও মৃতদের সুখে শুধু ঈর্ষা করা চলে।‘জাহাজ, জাহাজ’ – ব’লে আর্তনাদ সকলেই করি
যাও, পত্রদূত
যাও পত্রদূত, বোলো তার কানে-কানে মৃদু স্বরেসলজ্জ ভাষায় এই বার্তা: “কোমল পাথর, তুমিসুর্যাস্তের লাল আভা জড়িয়ে রয়েছো বরতনু;প্রকৃতি জানে না
ভাত দে হারামজাদা
ভীষণ ক্ষুধার্ত আছিঃ উদরে, শরীরবৃত্ত ব্যেপেঅনুভূত হতে থাকে- প্রতিপলে- সর্বগ্রাসী ক্ষুধাঅনাবৃষ্টি- যেমন চৈত্রের শষ্যক্ষেত্রে- জ্বেলে দ্যায়প্রভুত দাহন- তেমনি ক্ষুধার জ্বালা,
যদি ভালোবাসা পাই
যদি ভালোবাসা পাইআবার শুধরে নেবো ভুলগুলি ;যদি ভালোবাসা পাইব্যাপক দীর্ঘপথে তুলে নেব ঝোলাঝুলি।যদি ভালবাসা পাইশীতের রাতের শেষে মখমল দিন পাব;যদি