জননী জন্মভূমি

আমি ভীষণ ভালোবাসতাম আমার মা-কে
—কখনও মুখ ফুটে বলি নি।
টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে
কখনও কখনও কিনে আনতাম কমলালেবু
—শুয়ে শুয়ে মা-র চোখে জলে ভ’রে উঠত
আমার ভালোবাসার কথা
মা-কে কখনও আমি মুখ ফোটে বলতে পারি নি।

হে দেশ, হে আমার জননী—
কেমন ক’রে আমি তোমাকে বলি!
যে মাটিতে ভর দিয়ে আমি উঠে দাঁড়িয়েছি—
আমার দু-হাতের
দশ আঙুলে
তার স্মৃতি।

আমি যা কিছু স্পর্শ করি
যেখানেই,
হে জননী,
তুমি।
আমার হৃদয়বানী
তোমারই হাতে বাজে।

হে জননী,
আমরা ভয় পাই নি।
যারা তোমার মাটিতে নিষ্ঠূর থাবা বাড়িয়েছে
আমরা তাদের ঘাড় ধ’রে
সীমান্ত পার ক’রে দেব।

আমরা জীবনকে নিজের মতো ক’রে
সাজাচ্ছিলাম—
আমরা সাজাতে থাকব।

হে জননী,
আমরা ভয় পাই নি।
যজ্ঞে বিঘ্ন ঘটেছে ব’লে
আমরা বিরক্ত।

মুখ বন্ধ ক’রে,
অকান্ত হাতে-
হে জননী,
আমরা ভালোবাসার কথা ব’লে যাব।

শেয়ার করুনঃ

প্রাসঙ্গিক

এক গাঁয়ে

আমরা দুজন একটি গাঁয়ে থাকি।সেই আমাদের একটিমাত্র সুখ।তাদের গাছে গায় যে দোয়েল পাখিতাহার গানে আমার নাচে বুক।তাহার দুটি পালন-করা ভেড়াচরে

বাকি অংশ »

আমি কোনো আগন্তুক নই আহসান হাবীব

আসমানের তারা সাক্ষীসাক্ষী এই জমিনের ফুল, এইনিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষীসাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষীপুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে

বাকি অংশ »

মে-দিনের কবিতা

প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্যধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্যকাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া। চিমনির মুখে শোনো সাইরেন-শঙ্খ,গান

বাকি অংশ »

সাম্প্রতিক সংযোজন

Scroll to Top