বালিকা ফুল ভালোবাসে। আমি ভালোবাসি প্রজাপতি, পাখার রঙিন ঢেউ, সোনালি রেণু- বালিকা চঞ্চল হয়, হাওয়ায়-হাওয়ায় ওড়ে পাহাড়ে, সবুজ ঘাসের নিচে জমা রাখে হৃদয়ের উত্তাপ; পতেঙ্গার পানি ছুঁয়ে নেমে যায় দ্রুত পাথরে-বালিতে আঁকে ঘরবাড়ি, লেখে প্রিয় নাম আলোতে-অন্ধকারে তার নিজস্ব আনাগোনা কোনোদিন ঘটনা হবে না। বালিকা এমনি- আমি সাক্ষী, বয়স বাড়ার সাথে চুল ঝ’রে গেছে গোঁফে-দাঁতে নেমেছে ঠান্ডা হিম, একাকী যেতে পারি না বহুদূর, মধ্যরাতে কেঁপে উঠি- বাথরুম, জানালা দিয়ে ওই বুঝি ঢুকে পড়ে আতঙ্কের মাছি
একটি ঠান্ডা ঘর বালিকার পছন্দ বড়ো আমি চাই বুকের ভেতর জমা শস্যের উত্তাপ একটি নদীর তীরে বারবার বালিকা ফিরে যায় সাম্পানের গলুইয়ে রাখে হাত, জলখেলা দুপুর বেলায় আমি ফিরে আসি নদীর তীব্রতা থেকে বরফ-স্পর্শ থেকে মাটির কিনারে।
বালিকা ভালোবাসে গান, স্বপ্নিল ভুবন তার একান্ত আপন দেশ থেকে বৈদেশে কেউ তারে কোনোদিন কোনো প্রেম দেয়নি অন্তরে। আমি জানি লোহার বন্ধন, পাশাপাশি বেঁধে রাখে এক থেকে বহু, হাতে হাত, কিন্তু খোলা কোনোদিন যাবে না তালা; তবু কথা দিয়েছিলো কেউ এই পথে স্মৃতিস্তম্ভে, মেলায়, বিপণীতে, মাঠে ঠান্ডা এক সবুজাভ ঘরে…
বালিকা কি চোখের ভেতর ব’সে অন্য চোখ চায়? আমি চাই আমার ভেতর আমি, দীর্ঘ সম্মোহন এ ভাবেই, পরস্পরকে সরে যেতে হয়,
সরে যায় অখণ্ড সময়।