জসীম উদ্দীন
আসমানী
আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে
কবর
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,পুতুলের বিয়ে
পল্লী জননী
রাত থম থম স্তব্ধ, ঘোর-ঘোর-আন্ধার,নিশ্বাস ফেলি, তাও শোনা যায়, নাই কোথা সাড়া কার।রুগ্ন ছেলের শিয়রে বিসয়া একেলা জাগিছে মাতা,করুণ চাহনি
আমার বাড়ি
আমার বাড়ি যাইও ভোমর,বসতে দেব পিঁড়ে,জলপান যে করতে দেবশালি ধানের চিঁড়ে। শালি ধানের চিঁড়ে দেব,বিন্নি ধানের খই,বাড়ির গাছের কবরী কলা,গামছা-বাঁধা
বঙ্গ-বন্ধু
মুজিবর রহমান।ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি-উগারী বান।বঙ্গদেশের এ প্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেয়ে,জ্বালায় জ্বলিছে মহা-কালানল ঝঞঝা-অশনি বেয়ে ।বিগত দিনের যত
আসমানী
আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে
খুকির সম্পত্তি
শিউলি নামের খুকির সনে আলাপ আমার অনেক দিনের থেকেহাসিখুশি মিষ্টমিশি অনেক কথা কই যে তারে ডেকে।সেদিন তার কইনু ‘খুকি- কী
রাখাল ছেলে
“রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে! বারেক ফিরে চাও,বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?” ‘ওই যে দেখ নীল-নোয়ান সবুজ ঘেরা গাঁকলার
মামার বাড়ি
আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা,ফুল তুলিতে যাইফুলের মালা গলায় দিয়েমামার বাড়ি যাই।মামার বাড়ি পদ্মপুকুরগলায় গলায় জল,এপার হতে ওপার গিয়েনাচে ঢেউয়ের দল।
পালের নাও
পালের নাও, পালের নাও, পান খেয়ে যাও–ঘরে আছে ছোট বোনটি তারে নিয়ে যাও।কপিল-সারি গাইয়ের দুধ যেয়ো পান করে’কৌটা ভরি সিঁদুর
এত হাসি কোথায় পেলে
এত হাসি কোথায় পেলেএত কথার খলখলানিকে দিয়েছে মুখটি ভরেকোন বা গাঙের কলকলানি।কে দিয়েছে রঙিন ঠোঁটেকলমী ফুলের গুলগুলানি।কে দিয়েছে চলন বলনকোন
প্রতিদান
আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর,আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।যে মোরে করিল পথের বিবাগী;পথে

| জন্ম তারিখ | ১ জানুয়ারি ১৯০৩ |
|---|---|
| জন্মস্থান | ফরিদপুর |
| মৃত্যু | ১৪ মার্চ ১৯৭৬ |
জসীম উদ্দীন জীবনী
জসীম উদ্দীন (১ জানুয়ারি ১৯০৩ – ১৪ মার্চ ১৯৭৬) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি ‘পল্লীকবি’ নামে সুপরিচিত। তিনি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আনসার উদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
জসীম উদ্দীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি গ্রামবাংলার প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাত্রা, প্রেম, বিরহ, লোকসংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। তাঁর কবিতায় বাংলার পল্লিজীবনের সহজ-সরল চিত্র অত্যন্ত আবেগময়ভাবে ফুটে উঠেছে।
তাঁর বিখ্যাত রচনার মধ্যে নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট ও রাখালী উল্লেখযোগ্য। তাঁর কবর কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী সৃষ্টি। এ ছাড়া আসমানী, প্রতিদান ও নিমন্ত্রণ কবিতাগুলোও পাঠকমহলে বিশেষভাবে পরিচিত।
জসীম উদ্দীন শুধু কবি ছিলেন না, তিনি লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সাহিত্যকর্ম আজও বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।
আসমানী
আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে
কবর
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,পুতুলের বিয়ে
পল্লী জননী
রাত থম থম স্তব্ধ, ঘোর-ঘোর-আন্ধার,নিশ্বাস ফেলি, তাও শোনা যায়, নাই কোথা সাড়া কার।রুগ্ন ছেলের শিয়রে বিসয়া একেলা জাগিছে মাতা,করুণ চাহনি
আমার বাড়ি
আমার বাড়ি যাইও ভোমর,বসতে দেব পিঁড়ে,জলপান যে করতে দেবশালি ধানের চিঁড়ে। শালি ধানের চিঁড়ে দেব,বিন্নি ধানের খই,বাড়ির গাছের কবরী কলা,গামছা-বাঁধা
বঙ্গ-বন্ধু
মুজিবর রহমান।ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি-উগারী বান।বঙ্গদেশের এ প্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেয়ে,জ্বালায় জ্বলিছে মহা-কালানল ঝঞঝা-অশনি বেয়ে ।বিগত দিনের যত
আসমানী
আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি,একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে
খুকির সম্পত্তি
শিউলি নামের খুকির সনে আলাপ আমার অনেক দিনের থেকেহাসিখুশি মিষ্টমিশি অনেক কথা কই যে তারে ডেকে।সেদিন তার কইনু ‘খুকি- কী
রাখাল ছেলে
“রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে! বারেক ফিরে চাও,বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?” ‘ওই যে দেখ নীল-নোয়ান সবুজ ঘেরা গাঁকলার
মামার বাড়ি
আয় ছেলেরা, আয় মেয়েরা,ফুল তুলিতে যাইফুলের মালা গলায় দিয়েমামার বাড়ি যাই।মামার বাড়ি পদ্মপুকুরগলায় গলায় জল,এপার হতে ওপার গিয়েনাচে ঢেউয়ের দল।
পালের নাও
পালের নাও, পালের নাও, পান খেয়ে যাও–ঘরে আছে ছোট বোনটি তারে নিয়ে যাও।কপিল-সারি গাইয়ের দুধ যেয়ো পান করে’কৌটা ভরি সিঁদুর
এত হাসি কোথায় পেলে
এত হাসি কোথায় পেলেএত কথার খলখলানিকে দিয়েছে মুখটি ভরেকোন বা গাঙের কলকলানি।কে দিয়েছে রঙিন ঠোঁটেকলমী ফুলের গুলগুলানি।কে দিয়েছে চলন বলনকোন
প্রতিদান
আমার এ ঘর ভাঙ্গিয়াছে যেবা, আমি বাধি তার ঘর,আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।যে মোরে করিল পথের বিবাগী;পথে