অমিতাভ দাশগুপ্ত
খো খো
মায়ের সঙ্গে ঠোঙা বানায়.,বিকেলে খেলে খো খো,বনগাঁ থেকে বার্লিনে যায়,সাধ্যি থাকে রোখো।মেয়ের বাবা সকাল-সন্ধেচৌমাথাতে হকার,ছোট বোনটি ফাইভে পড়ে,এখনও দাদা বেকার।তবুও
মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল
মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল . . .দুই ঠোঁট ছিঁড়ে নাও,চোখের কোটর থেকে নীলপদ্ম তুলে নাও,নিষিদ্ধ দেরাজ থেকে তুলে নাও
একদিন হবে
আজ নয়।কালও নয়।একদিন হবে।সেদিন তুমি বা আমি কেউ থাকবনা।তবু হবে।সব রক্ত আর জল মিলে মিশে প্রণামের মতরক্তিম ভোরের দিকে যাবে।আজ
নারীমেধ
‘এক’ ‘মেয়েমানুষের মাংস এমনিতেই খেতে খুব স্বাদু,আর যদি দিশি মদে ভিজিয়ে ভিজিয়েহায় হায় ভাবাই যায় না…..তাছাড়া এখন খুব পড়েছে মরশুম,ছয়
বুকের বাংলা ভাষা
যত দূরেই যাচ্ছিতোদের পায়ের শব্দ পাচ্ছি।তোরা আমার সঙ্গ ছাড়িস না,আঁচল পেতে আছেন বসেঐ আমাদের মা,একজোটে ঐ দুঃখিনীটির ঘরের দাওয়ায় যাবো খুঁদকুড়ো
উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি
বুকের রক্ত মুখে তুলে যারা মরেওপারে ঢাকায় এপারের শিলচরেতারা ভালোবাসা-বাংলাভাষার জুড়ি—উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি। সিঁদুর কুড়িয়ে নেওয়া যায় এক
শুনুন কমরেডস
সব সময় বিপ্লবের কথা না ব’লেযদি মাঝে মাঝে প্রেমের কথা বলি—আমাকে ক্ষমা করবেন, কমরেডস।সব সময় ইস্তেহার না লিখেযদি মাঝে মাঝে
এসো স্পর্শ করো
এসো। ছোঁও।সম্পূর্ণ পাথর হয়ে গেছি কিনা, দ্যাখো।পাথরের বুক থেকে মাংস নাও,পাঁজরের রিডে রিডে চাপ দাও দশটি আঙুলে, আমাকে বাজাও তুমি বিঠোফেন-বালিকার হাত, বলো— আমি প্রত্ন
তোমার ক্ষমায় স্নাত
মেঘের খোঁপায় ফুটেছে আলোর ফুল,তোমাকে কি দেব অনন্য উপহার ?কোন ঘাটে পারহ’তে চেয়েছিলে খুঁজে অনুকুল হাওয়া,নাবিক বাছো নি, এ-নৌকো বেয়ে
আমার নাম ভারতবর্ষ
স্টেন গানের বুলেটে বুলেটেআমার ঝাঁঝরা বুকের উপরে ফুটে উঠেছে যে মানচিত্র—তার নাম ভারতবর্ষ। আমার প্রতিটি রক্তের ফোঁটা দিয়েচা-বাগিচায় কফি খেতে,কয়লা-খাদানে,
এই স্পার্টাকাস-রাত
আজ রাতে যখন চারপাশ সুনসান,মশারির অনের নিচু থেকে অম্লজান টানার শব্দ,গলি-উপগলি-কানাগলির শিরায়, টানেলে ঝুপঝাপ অন্ধকার,গাড়িবারান্দার নীচে ঘর-ছুট্ মানুষ আর আকাশেরঅশ্রুর লবণ মিলে-মিশে একাকার, শ্যামবাজারের পঞ্চমুখী
কাঠের চেয়ার
কাঠের চেয়ারে বসে থাকতে থাকতেমানুষও একদিন কাঠ হয়ে যায়।তার পায়ের আঙুলগুলোশিকড় হয়ে চাড়িয়ে যায় মেঝের ভেতর।তার কোমর থেকেসোঁদরি, গরান, গঁদের

| জন্ম তারিখ | ২৫ নভেম্বর ১৯৩৫ |
|---|---|
| জন্মস্থান | ফরিদপুর, বাংলাদেশ |
| মৃত্যু | ৩০ নভেম্বর ২০০৭ |
অমিতাভ দাশগুপ্ত জীবনী
অমিতাভ দাশগুপ্ত (২৫ নভেম্বর ১৯৩৫ – ৩০ নভেম্বর ২০০৭) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি, অধ্যাপক ও সাহিত্যসম্পাদক। তিনি তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই সাহিত্য ও কবিতার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। পরবর্তীকালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন।
অমিতাভ দাশগুপ্তের কবিতায় প্রেম, মানবিকতা, সমাজচেতনা ও সমকালীন জীবনের নানা অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি সহজ অথচ গভীর ভাবপ্রকাশের মাধ্যমে বাংলা কবিতায় নিজস্ব স্থান তৈরি করেছিলেন।
কবিতা রচনার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যসম্পাদনার কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি কালান্তর পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীকালে পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে আমার নীরবতা আমার ভাষা বিশেষভাবে পরিচিত। এই কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি ১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন বাংলা কবিতার জগতে অমিতাভ দাশগুপ্তের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর কবিতা পাঠককে মানুষের জীবন, অনুভূতি ও সমাজের বাস্তবতা নিয়ে ভাবতে অনুপ্রাণিত করে। সাহিত্যচর্চা ও সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে অবদান রেখেছেন। ২০০৭ সালের ৩০ নভেম্বর তাঁর জীবনাবসান ঘটে। তবে তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা কবিতার পাঠক ও অনুরাগীদের কাছে আজও গুরুত্বপূর্ণ।
কবি অমিতাভ দাশগুপ্তের উল্লেখযোগ্য কবিতার নাম নিচে দেওয়া হলো।